আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিলরুবা আফরোজ তিথি আসামি তাসলিমার জবানবন্দি রেকর্ড করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। অন্যদিকে, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাজু আহমেদ অন্য আসামি আব্দুল মতিনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
আদালত পুলিশ জানায়, বুধবার (২০ মে) তাসলিমাকে নরসিংদী এবং আব্দুল মতিনকে যাত্রাবাড়ীর শনিরআখড়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এর আগে মঙ্গলবার (১৯ মে) তাসলিমার বান্ধবী হেলেনা বেগম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। হেলেনার মেয়ে অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাকে গাজীপুরের কোনাবাড়ী কিশোরী উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে।
র্যাব জানায়, এসবের জেরে তাসলিমা ও হেলেনা মিলে মোকাররমকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। গত ১৪ মে সকালে খাবারের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে প্রথমে তাকে বালিশচাপা দিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়। পরে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে হাতুড়ি ও বটি দিয়ে আঘাত করে তার মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। এরপর লাশ বাথরুমে নিয়ে আট টুকরা করে পলিথিন ও বস্তায় ভরে রাতে বাসার কাছের একটি আবর্জনার স্তূপে ফেলে দেওয়া হয়। আর মাথাটি ফেলে আসা হয় কিছুটা দূরে।
হত্যাকাণ্ডের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক দেখাতে আসামিরা পরদিন বাসার ছাদে আড্ডা ও খাবারের আয়োজনও করেছিলেন বলে জানায় র্যাব।
গত শনিবার মরদেহ থেকে দুর্গন্ধ ছড়ালে স্থানীয় লোকজন জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল দেন। পরে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে এবং আঙুলের ছাপ পরীক্ষার মাধ্যমে মোকাররমের পরিচয় নিশ্চিত করে। গত রোববার রাতে হেলেনা ও তার মেয়েকে গ্রেপ্তারের পর নিহতের মাথার অংশ উদ্ধার করা হয়।
এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মোকাররমের চাচা রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে সোমবার মুগদা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

