মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জাতীয় গোয়েন্দা বিভাগের পরিচালক (ডিএনআই) তুলসি গ্যাবার্ড আগামী ৩০ জুনের মধ্যে তাঁর পদ থেকে পদত্যাগ করার ঘোষণা দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) পোস্ট করা এক পদত্যাগপত্রে তিনি জানান, তাঁর স্বামী আব্রাহাম উইলিয়ামস সম্প্রতি একটি বিরল ধরনের হাড়ের ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছেন। এই কঠিন সময়ে স্বামীর পাশে থাকার জন্যই তিনি গত দেড় বছর ধরে দায়িত্ব পালন করা এই অত্যন্ত ব্যস্ততম পদ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর নিজের সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ট্রুথ সোশ্যালে প্ল্যাটফর্মে এই পদত্যাগের খবর নিশ্চিত করে জানান, গ্যাবার্ডের অনুপস্থিতিতে প্রিন্সিপাল ডেপুটি ডিরেক্টর অ্যারন লুকাস ভারপ্রাপ্ত গোয়েন্দা প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার পরিচালক হিসেবে তুলসি গ্যাবার্ডের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে স্বামী আব্রাহাম উইলিয়ামস ছবি: সংগৃহীত
তবে গ্যাবার্ড পারিবারিক কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করলেও, সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো দাবি করছে যে তাঁকে আসলে হোয়াইট হাউস থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়েছে বা ‘পুশ আউট’ করা হয়েছে। দীর্ঘ বেশ কিছুদিন ধরেই ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ নীতিনির্ধারকদের সাথে গ্যাবার্ডের দূরত্ব তৈরি হয়েছিল।
ভেনিজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপসারণের সামরিক অভিযান, ইরানের যুদ্ধ এবং কিউবা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় নিরাপত্তা বৈঠকগুলোতে গ্যাবার্ডের অনুপস্থিতি এই অসন্তোষের স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছিল। তা ছাড়া, ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের কঠোর অবস্থানের তুলনায় গ্যাবার্ড কিছুটা ‘নরমপন্থী’ ছিলেন, যা নিয়ে স্বয়ং ট্রাম্পও অতীতে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন।

১৬ মাসের এই বিতর্কিত মেয়াদে গ্যাবার্ডের বেশ কিছু পদক্ষেপ গোয়েন্দা সংস্থায় তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করে। বিশেষ করে গত আগস্টে ৩৭ জন বর্তমান ও প্রাক্তন মার্কিন কর্মকর্তার নিরাপত্তা ছাড়পত্র বাতিল করার কারণে বিদেশে কর্মরত একজন আন্ডারকভার এজেন্টের নাম ফাঁস হয়ে যায়।
এছাড়া, তাঁর নেতৃত্বাধীন একটি টাস্কফোর্স কর্তৃক জেএফকে হত্যাকাণ্ডের ফাইল ডিক্লাসিফাই করা, কোভিডের উৎস সন্ধান এবং নির্বাচনী মেশিনের সুরক্ষা তদন্তের মতো বিষয়গুলো হোয়াইট হাউসের পছন্দ ছিল না। একই সাথে ভেনিজুয়েলা ইস্যুতে প্রশাসনের অবস্থানের সাথে দ্বিমত পোষণ করা জাতীয় গোয়েন্দা পরিষদের (এনআইসি) কর্মকর্তাদের বরখাস্ত করা এবং জর্জিয়ার একটি নির্বাচনী কেন্দ্রে এফবিআই অভিযানের সময় তাঁর উপস্থিতি বড় ধরনের বিতর্কের জন্ম দেয়।

সাবেক ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য এবং ইরাক যুদ্ধের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন তুলসি গ্যাবার্ড ২০২০ সালে দল ত্যাগ করে ট্রাম্পকে সমর্থন করেছিলেন। গ্যাবার্ডের পদত্যাগের পর সিনেট ইন্টেলিজেন্স কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য সিনেটর মার্ক ওয়ার্নার মন্তব্য করেছেন যে, এই পদটিকে অতিরিক্ত রাজনৈতিকীকরণ করা হয়েছে এবং পরবর্তী গোয়েন্দা প্রধানের উচিত অভ্যন্তরীণ রাজনীতির বদলে শুধু বৈদেশিক গোয়েন্দা তথ্যে মনোনিবেশ করা। অন্যদিকে, সিনেটর এরিক স্মিটের মতো বেশ কয়েকজন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা গ্যাবার্ডের কাজের প্রশংসা করে তাঁর বিদায়ে দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স ও আল জাজিরা

