আবারও টেন্ডার প্রক্রিয়ার প্রচলিত আইন, নীতি ও বিধি লঙ্ঘন করে পছন্দের সেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেয়ার অপচেষ্টার কারণে আলোচনায় বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পরিচালিত ন্যাশনাল সেন্টার ফর সার্ভিক্যাল অ্যান্ড ব্রেস্ট ক্যানসার স্ক্রিনিং অ্যান্ড ট্রেনিং-এর পরিচালক অধ্যাপক ডা. আশরাফুন্নেসা।
অভিযোগকারী দাবি করেন, ডা. আশরাফুন্নেসার সঙ্গে যোগসাজশে ‘সাবিলা ইন্টারন্যাশনাল’ ও ‘গ্রামীণ ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল’ নামে দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ১০ বছর ধরে রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রশাসনিক আঁতাতের মাধ্যমে ন্যাশনাল সেন্টার ফর সার্ভিক্যাল অ্যান্ড ব্রেস্ট ক্যানসার স্ক্রিনিং অ্যান্ড ট্রেনিংয়ের অধিকাংশ প্রকল্প নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে সংবাদমাধ্যমে দুর্নীতির খবর প্রকাশিত হওয়ার পাশাপাশি অডিট আপত্তিও রয়েছে।
লিখিত অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, টেন্ডার আইডি- ১২২২৪৮৯-এর আওতায় অপটিক্যাল কোলপোস্কোপ মেশিন ক্রয়ে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী যন্ত্রটির উৎপাদনকারী দেশ যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশ অথবা জার্মানি হওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও একটি সিন্ডিকেটের যোগসাজশে চীন থেকে আমদানিকৃত নিম্নমানের কমদামি যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা হয়েছে। এতে সরকারি অর্থের অপচয় হয়েছে।
এছাড়া আইসিইউ বেড, ভেন্টিলেটর, পিটি মনিটর, পোর্টেবল অক্সিজেন সিলিন্ডারসহ বিভিন্ন চিকিৎসা সরঞ্জাম ক্রয়ের চলমান টেন্ডার (আইডি- ১২৩০৯৮২) নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ তোলা হয়েছে।
গত ৪ মার্চ ওপেনিং রিপোর্টের তথ্য উল্লেখ করে অভিযোগপত্রে বলা হয়, দরদাতাদের মধ্যে জুবায়ের সার্জিক্যাল সর্বনিম্ন ৬৯ লাখ ৯৫ হাজার ৬৫৮ টাকার দর দেয়। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা জুয়াইরিয়া ইন্টারন্যাশনাল দর দেয় ৭৫ লাখ ৪২ হাজার ৮০০ টাকা। এরপর এম/এস বেলাল অ্যান্ড ব্রাদার্স ৭৯ লাখ ৬৮ হাজার টাকা এবং সাবিলা ইন্টারন্যাশনাল ৮২ লাখ ১০ হাজার টাকার দর প্রস্তাব করে।
অভিযোগকারী দাবি করেন, সর্বনিম্ন দরদাতাদের অযৌক্তিকভাবে ‘নন-রেসপনসিভ’ ঘোষণা করে প্রায় ৬ লাখ ৬৭ হাজার ২০০ টাকা বেশি দরদাতা হওয়া সত্ত্বেও সাবিলা ইন্টারন্যাশনালকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তিনি এটিকে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন ও বিধিমালার পরিপন্থী উল্লেখ করে দ্রুত তদন্তের দাবি জানান।
অভিযোগপত্রে ঠিকাদার মো. হারুন অর রশিদ বলেন, গুরুতর দুর্নীতির বিষয়গুলো বিবেচনা করে জরুরি ভিত্তিতে এই টেন্ডার প্রক্রিয়াসমূহে আপনার সুনির্দিষ্ট হস্তক্ষেপ প্রার্থনা করছি। একই সাথে বিগত ১০ বছরের প্রজেক্টের অডিট আপত্তি, নিম্নমানের চীনা যন্ত্রপাতি সরবরাহ এবং ডা. আশরাফুন্নেসার সঙ্গে ‘সাবিলা ইন্টারন্যাশনাল’ ও ‘গ্রামীণ ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল’ এর পারস্পরিক অনৈতিক আঁতাতের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে একটি উচ্চ-পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা দাবি জানাই।
অভিযোগের বিষয়ে অধ্যাপক ডা. আশরাফুন্নেসা মন্তব্য জানতে ফোন করা হলে তিনি বলেন, ‘এই বিষয় আমি কোনো কথা বলবো না। এটা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাপার। আপনি কথা বললে অথরিটির সঙ্গে কথা বলেন।’

