ফেব্রুয়ারির শেষভাগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ সামরিক হামলার পর থেকেই ফুটবল বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে এক বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। তবে, সব শঙ্কা ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনাকে একপাশে সরিয়ে রেখে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ক্যাম্পের জন্য সোমবার তুরস্কে পৌঁছেছে ইরানের জাতীয় ফুটবল দল। এখান থেকেই ভিসা নিয়ে আমেরিকা উড়ে যাবে ইরান।
সোমবার তুরস্কের আনতালিয়া বিমানবন্দরে কালো রঙের অফিশিয়াল ব্লেজার ও সুটকেস হাতে নেমে আসেন ইরানের ফুটবলার ও কর্মকর্তারা। সেখান থেকে তাঁরা সরাসরি চলে যান বেলেক রিসোর্টের কাছে নির্ধারিত প্রশিক্ষণ ঘাঁটির হোটেলের উদ্দেশ্যে। উল্লেখ্য, বিগত কয়েক বছর ধরে বিশ্বের বেশ কয়েকটি জাতীয় দল এই বেলেক রিসোর্টেই তাদের বিশ্বকাপ ও আন্তর্জাতিক ক্যাম্প পরিচালনা করেছে।

ইরানের বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে যখন বিশ্বজুড়ে তুমুল গুঞ্জন, ঠিক তখনই গত শনিবার ফিফার মহাসচিব মাটিয়াস গ্রাফস্ট্রোম রয়টার্সকে একটি ইতিবাচক তথ্য দিয়েছেন। তিনি জানান, ইরানের ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহদি তাজের সাথে তাঁর একটি ফলপ্রসূ বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে তিনি আসন্ন বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণের ব্যাপারে পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করেছেন।
বিশ্বকাপের মূল আসরে ইরানের তিনটি গ্রুপ ম্যাচই যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। ইরান দল এবং ফিফা আগেই জানিয়েছিল, ইরানি ফুটবলারদের মার্কিন ভিসার প্রক্রিয়াটি শেষ করা হবে তুরস্ক থেকে। তবে এই ভিসা প্রাপ্তি নিয়ে বড় ধরনের ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহদি তাজের একটি সাম্প্রতিক ঘটনার পর।
চলতি মাসে ভ্যাঙ্কুভারে অনুষ্ঠিত ফিফা কংগ্রেসে যোগ দিতে মেহদি তাজ কানাডা যাওয়ার চেষ্টা করলে তাঁকে প্রবেশাধিকার দেওয়া হয়নি। ইরানের এলিট সামরিক বাহিনী ‘ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস’ (আইআরজিসি)-এর সাথে সম্পৃক্ততার অভিযোগে কানাডা সরকার তাঁকে ফিরিয়ে দেয়।

আমেরিকা ও কানাডা- উভয় দেশই আইআরজিসি’কে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে এবং তারা সোজা জানিয়ে দিয়েছে, এই বাহিনীর সাথে সম্পৃক্ত কোনো ব্যক্তিকে তারা তাদের দেশে প্রবেশের অনুমতি দেবে না। এই কঠোর অবস্থানের কারণেই ইরানি ফুটবলার ও কর্মকর্তাদের মার্কিন ভিসা পাওয়া নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে ভিসা জটিলতা এবং নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ইরান ফুটবল ফেডারেশন ফিফার কাছে একটি বিশেষ আবেদন জানিয়েছিল। তারা তাদের গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পরিবর্তে যৌথ আয়োজক অপর দেশ মেক্সিকোতে স্থানান্তর করার অনুরোধ করে।
তবে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ইরানের এই দাবি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি জোরালোভাবে জানিয়েছেন, বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচ আগে থেকে নির্ধারিত ভেন্যু বা মাঠগুলোতেই অনুষ্ঠিত হবে, এতে কোনো পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়।

পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, মে মাসের এই ক্যাম্প শেষ করে জুন মাসের শুরুর দিকেই ইরান দলের যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনায় টুসন শহরের ‘কিনো স্পোর্টস কমপ্লেক্স’ ঘাঁটিতে যাওয়ার কথা রয়েছে।
বিশ্বকাপের জি-গ্রুপে থাকা ইরানের মূল অভিযান শুরু হবে ১৫ জুন, লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। এই গ্রুপে তাদের অপর দুই প্রতিপক্ষ হলো ইউরোপের শক্তিশালী দল বেলজিয়াম এবং আফ্রিকার পরাশক্তি মিশর। এখন দেখার বিষয়, মাঠের লড়াই শুরুর আগে পর্দার পেছনের এই কূটনৈতিক ও ভিসা জটিলতা কাটিয়ে ইরান দল শেষ পর্যন্ত আমেরিকার মাটিতে পা রাখতে পারে কি না।


