কানাডা সরকার দেশের আকাশসীমা সুরক্ষায় নতুন প্রজন্মের রাডার-সজ্জিত নজরদারি বিমান কেনার পরিকল্পনা করছে। এই প্রকল্পে সুইডেন ও যুক্তরাষ্ট্রের নির্মাতাদের মধ্যে থেকে একটি বেছে নেওয়া হবে।
প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয়ে ছয়টি “এয়ারবর্ন আর্লি ওয়ার্নিং অ্যান্ড কন্ট্রোল (AEW&C)” বিমান কেনার পরিকল্পনা রয়েছে। এগুলোকে সাধারণভাবে “ফ্লাইং রাডার” বলা হয়।
কেন এই বিমান দরকার
কানাডিয়ান সশস্ত্র বাহিনীর মতে, দেশটির জন্য সবচেয়ে বড় সামরিক হুমকি আসতে পারে হাইপারসনিক বা ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র থেকে, যা উত্তর দিক, সমুদ্র কিংবা এমনকি মহাকাশ থেকেও নিক্ষেপ করা হতে পারে। সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হিসেবে Russia ও China-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের (Russian invasion of Ukraine) পর এসব হুমকি আরও জটিল ও মারাত্মক হয়ে উঠেছে।
কীভাবে কাজ করবে ‘ফ্লাইং রাডার’
এই বিশেষ বিমানগুলো ১০ কিলোমিটারের বেশি উচ্চতায় উড়ে শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র, যুদ্ধবিমান বা ড্রোন শনাক্ত করতে পারে। কোনো হুমকি শনাক্ত হলে তাৎক্ষণিকভাবে তথ্য পাঠিয়ে দেয় অন্যান্য সামরিক ইউনিট ও মিত্রদের কাছে, যাতে দ্রুত সমন্বিত প্রতিরোধ গড়ে তোলা যায়।
কোন কোন মডেল বিবেচনায়
এই প্রকল্পে তিনটি প্রধান প্ল্যাটফর্ম বিবেচনায় রয়েছে—
Boeing E-7 Wedgetail (যুক্তরাষ্ট্র)
Saab GlobalEye (সুইডেন)
L3Harris Aeris X
সরকার চায়, নতুন এই বিমানগুলো ভবিষ্যতের পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান যেমন F-35 Lightning II-এর সঙ্গে পুরোপুরি সমন্বিতভাবে কাজ করতে পারে।
দেশীয় শিল্পে গুরুত্ব
কার্নি সরকার দ্রুত এই সিদ্ধান্ত নিতে চায় এবং একই সঙ্গে চায় প্রকল্পে উল্লেখযোগ্য “কানাডিয়ান কনটেন্ট” বা দেশীয় শিল্পের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে।
সব মিলিয়ে, উন্নত প্রযুক্তির এই নজরদারি বিমান কেনার মাধ্যমে কানাডা তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে চায়।

