বলিউডের গ্ল্যামারাস ডিভা মৌনী রায় ও ব্যবসায়ী সূরজ নাম্বিয়ারের চার বছরের সাজানো সংসার নাকি ভেঙে চুরমার! গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মৌনী নিজেই তাদের ডিভোর্সের খবর নিশ্চিত করতেই সমাজিক মাধ্যমে রীতিমতো ভূমিকম্প শুরু হয়ে গেছে। কিন্তু টুইস্ট এখানেই শেষ নয়, এই হাই-প্রোফাইল ডিভোর্সের আগুনে ঘি ঢেলে কোনো প্রমাণ ছাড়াই মাঝখানে টেনে হিঁচড়ে আনা হয়েছে বলিউড সেনসেশন দিশা পাটানিকে! বেচারি দিশার অপরাধ? তিনি মৌনী রায়ের বড্ড কাছের বান্ধবী!

ঘটনার সূত্রপাত মৌনী ও সূরজের যৌথ বিবৃতির পরপরই। নেটপাড়ার কিছু গোয়েন্দা পাবলিক আবিষ্কার করেন যে, দিশা পাটানি নাকি ইনস্টাগ্রামে সূরজ নাম্বিয়ারকে আনফলো করে দিয়েছেন। ব্যস! আর যায় কোথায়? রেডিট থেকে শুরু করে বিভিন্ন গসিপ পেজে নানামুখী মুখরোচক থিওরি রান্না হতে শুরু করে। একদল উগ্র ট্রোলার তো সরাসরি দিশাকেই ‘হোমব্রেকার’ বা ঘরভাঙানি তকমা দিয়ে বসেছে।

ইনস্টাগ্রামের কমেন্ট বক্সে দিশাকে লক্ষ্য করে ধেয়ে আসছে একের পর এক বিষাক্ত বাণ। কেউ লিখেছেন, মৌনী আর সূরজের মধ্যে ঝগড়াটা লাগিয়েই দিলে তো? আবার কেউ একটু বেশি নিষ্ঠুর হয়ে লিখেছেন, তোমার সঙ্গেই তো থাকত, তোমার ছোঁয়াচেই মৌনীর ডিভোর্সটা হয়ে গেল। এমনকি ক্ষুব্ধ নেটিজেনদের কেউ কেউ সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন, সূরজকে কেন আনফলো করলে? তোমার জন্যই মৌনী ডিভোর্স নিয়েছে!

গসিপের পারদ আরও একধাপ উপরে চড়ে যখন সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভুয়া এবং এডিটেড স্ক্রিনশট ভাইরাল হয়। সেই এডিটেড ছবিতে দেখা যাচ্ছে, মৌনী রায় ও দিশা পাটানি ঐতিহ্যবাহী ট্র্যাডিশনাল পোশাকে গলায় মালা পরে দাঁড়িয়ে আছেন! আর সেই ফেক স্ক্রিনশটের ক্যাপশনে মৌনীর নাম করে লেখা হয়েছে, জীবনের একটা অধ্যায় শেষ করে ওর মধ্যে আমি আমার চিরন্তন আশ্রয় খুঁজে পেয়েছি।

তবে একটু খতিয়ে দেখলেই বোঝা যায়, এই ছবি ও স্ক্রিনশটটি সম্পূর্ণ ডিজিটাল কারসাজি এবং ভুয়ো। মৌনী রায় তাঁর অফিশিয়াল অ্যাকাউন্টে এমন কোনো পোস্ট কখনোই করেননি। আসলে মৌনী রায় এবং দিশা পাটানি দীর্ঘদিনের বেস্ট ফ্রেন্ড। একসঙ্গে পার্টি করা, ছুটি কাটাতে যাওয়া থেকে শুরু করে একে অপরের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে মাখামাখি, সবখানেই তাঁদের ঘনিষ্ঠতা স্পষ্ট। আর, এই অতিরিক্ত মাখামাখির কারণেই নেটিজেনরা কোনো প্রমাণ ছাড়াই দিশাকে এই ডিভোর্সের খলনায়িকা বানিয়ে ছেড়েছে।

তারকাদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ার এই নোংরা চর্চা এবং কোনো প্রমাণ ছাড়াই দিশা পাটানিকে যেভাবে ট্রোল করা হচ্ছে, তা অত্যন্ত সংবেদনহীন। মৌনী-সূরজের বৈবাহিক সম্পর্কের ইতি ঘটার পেছনে দিশার দূর-দূরান্ত পর্যন্ত কোনো হাত না থাকলেও, গসিপপ্রেমী নেটিজেনদের কাছে এখন দিশাই প্রধান টার্গেট। গুজবের এই যুগে সত্যতা যাচাই না করে কাদা ছোড়াছুড়ি যে কতটা বিপজ্জনক রূপ নিতে পারে, দিশা পাটানির বর্তমান পরিস্থিতি তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ।
তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া ও নিউজ টোয়েন্টিফোর


