ক্ষমতায় আসার পর থেকে গণমাধ্যমে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ না করায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছে সম্পাদক পরিষদ। তবে সরকার যতোক্ষণ গণতান্ত্রিক থাকবে, সাংবাদিকেরাও ততোক্ষণ তাদের পাশে থাকবেন বলে জানিয়েছেন পরিষদের নেতারা। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হত্যাসহ বিভিন্ন মামলার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রীকে দায়িত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
রোববার (১৭ মে) দুপুরে গণমাধ্যমের চলমান নানা সঙ্কট ও সমস্যা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন সম্পাদক পরিষদের নেতারা।
বৈঠক শেষে সাংবাদিক ও সম্পাদকরা জানান, বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর গণমাধ্যমে হস্তক্ষেপ না করায় তারা প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। বৈঠক প্রসঙ্গে ইংরেজি দৈনিক নিউ এজ-এর সম্পাদক নুরুল কবীর বলেন, সরকার যতোক্ষণ পর্যন্ত গণতান্ত্রিক আচরণ করবে, ততোক্ষণ পর্যন্ত তারা আমাদের পাশে পাবে।
বৈঠকে দ্য ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম জানান, বিগত গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ২৮০ জনের মতো সাংবাদিক হত্যাসহ বিভিন্ন মামলার শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ৯৪ জন সাংবাদিককে হত্যা মামলার আসামি করা হয়েছে। বিষয়টি তারা প্রধানমন্ত্রীর নজরে এনেছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে এই মামলাগুলোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তথ্যমন্ত্রীকে নির্দেশ ও দায়িত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী।
আলোচনায় উঠে আসে, সাংবাদিকতাকে সমাজের দর্পণ এবং রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ বিবেচনা করা হলেও পতিত হাসিনা সরকারের সময় কিছু সাংবাদিক দলীয় পেটুয়া বাহিনীর মতো কাজ করেছিলেন। হাসিনার শাসনব্যবস্থা টিকিয়ে রাখতে তারা যথেষ্ট ভূমিকা রেখেছিলেন। গণ-অভ্যুত্থানের পর তাদের অনেকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং কেউ কেউ বর্তমানে কারাগারে আছেন। ওই সময়ে কোনো কোনো গণমাধ্যম হামলার শিকারও হয়েছে।
বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর এর আগেও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন সম্পাদক পরিষদের নেতারা।


