সব জল্পনা-কল্পনা, হাজারো বিতর্ক আর জাঁকজমকপূর্ণ নাটকের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে এলো সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় মঞ্চে নিজের শেষ ‘লাস্ট ড্যান্স’ দেওয়ার জন্য ব্রাজিলের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে অফিশিয়ালি জায়গা করে নিয়েছেন সাম্বা জাদুকর নেইমার জুনিয়র।
স্থানীয় সময় সোমবার দুপুর ২টার দিকে রিও ডি জেনিরোর জনাকীর্ণ সংদ সম্মেলনে ব্রাজিলের হাই-প্রোফাইল ইতালিয়ান হেড কোচ কার্লো আনচেলত্তি উত্তর আমেরিকার বিশ্বযুদ্ধের জন্য তাঁর চূড়ান্ত ২৬ সদস্যের স্কোয়াড ঘোষণা করেন। আর সেখানেই ফরওয়ার্ড লাইনের তালিকায় নেইমারের নাম আসতেই পুরো ফুটবল দুনিয়ায় শোরগোল পড়ে গেছে।

সব কিছু ঠিক থাকলে এবং শেষ মুহূর্তে নতুন কোনো চোটের ছোবল না বসলে, এই দলটাই উত্তর আমেরিকায় ব্রাজিলের অধরা ‘হেক্সা’ মিশন বা ষষ্ঠ বিশ্বকাপ ট্রফি জয়ের জন্য লড়বে। তবে মূল মঞ্চে নামার আগে আগামী ৩১ মে পানামা এবং ৬ জুন মিশরের বিপক্ষে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ দিয়ে নিজেদের ঝালিয়ে নেবে সেলেসাওরা।
বিগত কয়েক মাস ধরে ব্রাজিলের ফুটবল পাড়ার সবচেয়ে গরম টপিক ছিল, নেইমার কি আদৌ বিশ্বকাপ দলে থাকছেন? কোচ আনচেলত্তি বারবারই হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছিলেন, নাম বা অতীত খতিয়ান নয়, কেবল শতভাগ ‘শারীরিক ফিটনেস’ থাকলেই মিলবে বিশ্বকাপের টিকিট। ২০২৩ সালের অক্টোবরে উরুগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচে পায়ের পেশি ছিঁড়ে যাওয়ার পর থেকে দীর্ঘ সময় জাতীয় দলের বাইরে ছিলেন ব্রাজিলের এই সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা।

তবে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সান্তোসের হয়ে নেইমারের দারুণ ফর্ম এবং ঠিক শেষ মুহূর্তে রদ্রিগো ও এস্তেভাওয়ের মতো দুই নিয়মিত তারকার ইনজুরিতে পড়ে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়া, সব মিলিয়ে ভাগ্যদেবী যেন নিজেই নেইমারের জন্য বিশ্বকাপের দরজাটা হা করে খুলে দিলেন।
২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২২ সালের পর এটি হতে যাচ্ছে নেইমারের ক্যারিয়ারের চতুর্থ বিশ্বকাপ। অবশেষে কিংবদন্তি পেলে, রোনালদো নাজারিও বা রোমারিওদের ছাড়িয়ে যাওয়া ব্রাজিলের এই ‘পোস্টার বয়’-কে নিজের ডাগআউটে পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন আনচেলত্তি।
২০২৫ সালে নেইমারের ইউরোপ বা মধ্যপ্রাচ্য ছেড়ে নিজের পুরোনো ক্লাব সান্তোসে ফেরার পেছনে উদ্দেশ্য ছিল একটাই, ঘরের মাঠে নিয়মিত খেলে নিজেকে ফিট করা এবং যে কোনো মূল্যে বিশ্বকাপের স্কোয়াডে জায়গা করে নেওয়া। কারণ, দেশের হয়ে অলিম্পিক স্বর্ণ ছাড়া বড় কোনো আন্তর্জাতিক ট্রফি নেইমারের শোকেসে নেই। তাই ক্যারিয়ারের গোধূলিলগ্নে এসে এই বিশ্বকাপ নিয়ে তাঁর ক্ষুধা ও জেদ আকাশচুম্বী। কোপার মতো বিশ্বকাপেও আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলের ফাইনালের স্বপ্ন দেখেন তিনি।


