26.5 C
Bangladesh
May 16, 2026
Post Bangla

যুদ্ধবিরতির মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে আরও ১০ হাজার সেনা পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে আরও ১০ হাজারেরও বেশি সেনা পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বর্তমান ও সাবেক মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে ওয়াশিংটন পোস্ট।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ‘ইউএসএস জর্জ এইচডব্লিউ বুশ’ এবং আরও কয়েকটি জাহাজে করে প্রায় ৬ হাজার সেনা পাঠানো হচ্ছে। এ ছাড়া ‘বক্সার অ্যামফিবিয়াস রেডি গ্রুপ’ এবং ১১তম মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিটের আরও প্রায় ৪ হাজার ২০০ সেনা চলতি মাসের শেষ নাগাদ মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছাবে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০ হাজার মার্কিন সেনা এই অভিযানে অংশ নিয়েছেন বলে জানা গেছে।

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’ এবং ‘ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ড’ নামের দুটি রণতরি মোতায়েন রয়েছে। এ দুটি জাহাজ ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে অংশ নিয়েছে। আফ্রিকার পথ হয়ে ‘ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ’ পৌঁছালে এই অঞ্চলে মার্কিন রণতরির সংখ্যা দাঁড়াবে তিনে।

বর্তমানে হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ চলছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেছে, ইরানের বিরুদ্ধে তাদের নৌ অবরোধ ‘পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর’ করা হয়েছে এবং সমুদ্রপথে ইরানের সব ধরনের অর্থনৈতিক বাণিজ্য সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে মঙ্গলবারের মেরিটাইম ট্র্যাকিং ডেটা অনুযায়ী, কিছু জাহাজকে এই অবরোধের মধ্যেই হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে দেখা গেছে।

এদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, আগামী দুই দিনের মধ্যে পাকিস্তানে ইরানের সঙ্গে পুনরায় আলোচনা শুরু হতে পারে। গত সপ্তাহে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত প্রথম দফার দীর্ঘ আলোচনা কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়েছিল।

এদিকে হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলাইন লেভিট এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘হোয়াইট হাউস থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু না জানানো পর্যন্ত কোনো কিছুই চূড়ান্ত নয়। তবে আমরা একটি চুক্তির সম্ভাবনার বিষয়ে আশাবাদী।’

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আরও বলেন, মার্কিন প্রতিনিধিদল সম্ভবত আবারও ইসলামাবাদেই ফিরে যাবে, যেখানে গত সপ্তাহে ইরানের সঙ্গে আলোচনায় নেতৃত্ব দিয়েছিলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।

লেভিট বলেন, ‘খুব সম্ভবত তারা আগের বারের মতো একই স্থানে (পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ) আলোচনায় বসবেন।’

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই বিপুলসংখ্যক সেনা মোতায়েনের ফলে মার্কিন প্রশাসন একদিকে যেমন ইরানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যেতে পারবে, অন্যদিকে প্রয়োজন হলে পুনরায় হামলা বা স্থল অভিযানের জন্যও প্রস্তুত থাকবে।

উল্লেখ্য, বর্তমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ ২২ এপ্রিল শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

Related posts

বাসে ৬৪ শতাংশ, লঞ্চে দেড় গুণ ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব

bangladmin

অনন্তলোকে আশা ভোঁসলে

bangladmin

হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার একমাত্র পথ যুদ্ধবিরতি: চীন

bangladmin

তিন সাগরে জাহাজ চলাচলে বাধার হুমকি দিল ইরান

bangladmin

কাউন্সিলের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি: মির্জা ফখরুল

bangladmin

ইরানের সঙ্গে চুক্তি হলে সই করতে পাকিস্তান যেতে পারেন ট্রাম্প

bangladmin