26.5 C
Bangladesh
May 16, 2026
Post Bangla

অবশেষে সরাসরি টেবিলে মুখোমুখি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান

দীর্ঘ ছয় সপ্তাহের বিধ্বংসী যুদ্ধ আর পাল্টাপাল্টি হামলার পর, অবশেষে শান্তির খোঁজে একই কামরায় এক টেবিলে মুখোমুখি বসেছেন ওয়াশিংটন ও তেহরানের শীর্ষ প্রতিনিধিরা। আগে পরোক্ষ আলোচনার খবর পাওয়া গেলেও, শনিবার বিকেলে হোয়াইট হাউস এবং পাকিস্তানি সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ সরাসরি সংলাপে অংশ নিচ্ছেন।


ইসলামাবাদের এই রুদ্ধদ্বার বৈঠকে মার্কিন প্রতিনিধি দলে ভাইস প্রেসিডেন্টের পাশাপাশি বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে, ইরান তাদের ৭১ সদস্যের একটি বিশাল প্রতিনিধি দল পাঠিয়েছে, যার নেতৃত্বে রয়েছেন স্পিকার গালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। পাকিস্তানের পক্ষে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সকালে মধ্যস্থতা করার পর, সরাসরি আলোচনার সময় সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরও উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা শুরু হলেও দু’পক্ষের মধ্যে দাবি-দাওয়ার ব্যাপক ফারাক রয়ে গেছে। ইরান স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, তারা ‘ট্রিগারে আঙুল রেখেই’ আলোচনায় এসেছে। তেহরানের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, জব্দকৃত অর্থ ফেরত দেওয়া, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ প্রদান, হরমুজ প্রণালীতে তাদের নিরঙ্কুশ কর্তৃত্ব মেনে নেওয়া এবং লেবাননসহ পুরো অঞ্চলে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা।


অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল লেবানন অভিযানকে এই আলোচনার বাইরে রাখার পক্ষপাতী। এর মাঝেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, মার্কিন বাহিনী হরমুজ প্রণালী মাইনমুক্ত করা শুরু করেছে, যদিও ইরান ও পাকিস্তান এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। এছাড়া, কাতারে আটকে থাকা ইরানি অর্থ ছাড় দেয়া নিয়ে ইরানি সূত্রগুলো ইতিবাচক ইঙ্গিত দিলেও হোয়াইট হাউস তা অস্বীকার করেছে।

বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের আকাশচুম্বী দাম এবং হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানির পর এই বৈঠকটি সাধারণ মানুষের মনে আশার আলো জাগিয়েছে। তবে ইরানের ভেতরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকে অর্থনৈতিক মুক্তির আশা করলেও, নতুন কট্টরপন্থী নেতৃত্বের অধীনে ভবিষ্যতে কী ঘটবে, তা নিয়ে তারা গভীরভাবে শঙ্কিত। বিশেষ করে জানুয়ারির ভয়াবহ দমন-পীড়নের স্মৃতি এখনো দেশবাসীর মনে দগদগে।


এই ঐতিহাসিক বৈঠককে কেন্দ্র করে ইসলামাবাদ শহরকে কার্যত দুর্গ বানিয়ে ফেলা হয়েছে। হাজার হাজার আধা-সামরিক বাহিনী ও সেনা সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। ইরান থেকে আসা প্রতিনিধিরা কালো পোশাক পরেছিলেন, যা নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং যুদ্ধে প্রাণ হারানো শিক্ষার্থীদের শোকের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।

দুই ঘণ্টার প্রাথমিক আলোচনার পর প্রতিনিধিরা বিরতিতে গেছেন। এই সরাসরি সংলাপ কি শুধু একটি যুদ্ধবিরতির প্রতিশ্রুতি দেবে, নাকি দীর্ঘমেয়াদী শান্তির পথ প্রশস্ত করবে, সেদিকেই এখন তাকিয়ে আছে পুরো বিশ্ব। তবে দীর্ঘ প্রায় ৫০ বছর পর দুই চিরশত্রু দেশের একই রুমে বসে কথা বলাটাকেই বর্তমান ভূ-রাজনীতির সবচাইতে বড় ঐতিহাসিক সাফল্য হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।


ইসলামাবাদের এই বৈঠকটি শুধু একটি সংলাপ নয়, এটি মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র বদলে দেওয়ার এক শেষ চেষ্টা। জে.ডি. ভ্যান্স এবং ইরানি প্রতিনিধিদের এই সরাসরি মুখোমুখি অবস্থান প্রমাণ করে যে, উভয় পক্ষই যুদ্ধের ভয়াবহতা থেকে মুক্তি পেতে অন্তত আলোচনার টেবিলে বসার গুরুত্ব অনুধাবন করছে।

তথ্যসূত্র: বিবিসি-সিএনএন-আল জাজিরা-রয়টার্স

Related posts

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারণা শেষ, প্রথম দফার ভোট কাল

bangladmin

কাউন্সিলের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি: মির্জা ফখরুল

bangladmin

ইরানের সর্ববৃহৎ অ্যালুমিনিয়াম ও পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনায় বিমান হামলা

bangladmin

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্তে জামায়াতের প্রতিবাদ

bangladmin

ইরানে ইসরায়েলের অভিযান এখনও শেষ হয়নি : নেতানিয়াহু

bangladmin

১১ দলীয় জোটের তিন দিনের কর্মসূচি

bangladmin