গণমাধ্যমে অপতথ্য ও গুজবের বিস্তার রোধে আইনি পদক্ষেপের পাশাপাশি সমন্বিত সামাজিক ও পেশাদার উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বিশিষ্টজনেরা। তারা বলছেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সরকারের সমালোচনা করার সুযোগ থাকলেও মিথ্যা তথ্য বা ‘ফেক নিউজ’ প্রচারকে অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে তা কঠোরভাবে মোকাবিলা করতে হবে।
পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘অপতথ্য ও গুজব ছড়ানো যে একটি অপরাধ, তা অনেক সময় আমরা উপলব্ধিই করি না। কোনো না কোনোভাবে আইনি পদক্ষেপ ছাড়া এটি রোধ করা সম্ভব নয়। তবে সমালোচনা ও গালি ভিন্ন বিষয়; সেগুলো ফেক নিউজ নয়। ফেক নিউজকে অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত এবং এ বিষয়ে সরকারকে সুস্পষ্ট বার্তা দিতে হবে।’
সেমিনারে বিশেষ অতিথি ইউনেস্কোর হেড অব অফিস ও বাংলাদেশ প্রতিনিধি ড. সুসান ভাইজ গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার ওপর জোর দেন। তিনি ভুয়া তথ্য মোকাবিলায় কার্যকর ফ্যাক্ট-চেকিং ব্যবস্থা গড়ে তোলা, সাংবাদিকদের দক্ষতা উন্নয়ন, মিডিয়া সাক্ষরতা বৃদ্ধি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অ্যালগরিদম সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের ভাষা-প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ মামুন অর রশীদ। তিনি ফেক নিউজ প্রতিরোধে ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠান ও পেশাদার ফ্যাক্টচেকারদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।
দ্য ডিসেন্ট-এর সম্পাদক ও ফ্যাক্টচেক বিশেষজ্ঞ কদরুদ্দীন শিশির বলেন, অনেক গণমাধ্যমে ভুল তথ্য প্রকাশিত হলেও তা সংশোধন বা প্রত্যাহারের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় দায়বদ্ধতা দেখা যায় না। ফেক নিউজকে সমর্থন করার কোনো সুযোগ নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।
পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ তার স্বাগত বক্তব্যে বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যালগরিদম ব্যবহারকারীদের পছন্দ-অপছন্দকে প্রভাবিত করে এক ধরনের ‘ডিজিটাল দাসত্ব’ তৈরি করছে। মানুষ সত্য-মিথ্যা যাচাইয়ের বদলে নিজেদের মতের পক্ষে থাকা তথ্যকে বেশি গ্রহণ করছে, যার ফলে গণমাধ্যমের ওপর আস্থার সংকট তৈরি হচ্ছে। এই সংকট মোকাবিলায় তিনি গণমাধ্যমের পুনর্গঠন ও জ্ঞানভিত্তিক কাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন।
সেমিনারে অধ্যাপক আ-আল মামুন ও কাজী মামুন হায়দারের লেখা ‘বাংলাদেশে শিকারি সাংবাদিকতা’ শীর্ষক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে- দৈনিক সমকালের সিনিয়র সাংবাদিক রাজীব আহমেদ, সাংবাদিক ও শিক্ষক নাজিয়া আফরিন মনামী, ঢাকা পোস্টের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক কামরুল ইসলাম, গবেষক ও ফ্যাক্টচেকার মিনহাজ আমান এবং আজহার উদ্দিন অনিক বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন পিআইবির প্রশিক্ষক সাহানোয়ার সাইদ শাহীন।
ঢাকা পোস্ট-এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক কামরুল ইসলাম বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম তথ্যের ক্লু দিতে পারে, কিন্তু সেটি অবশ্যই অথেন্টিক নাও হতে পারে। এর জন্য ফ্যাক্ট চেক করে নেওয়া দরকার। খবরের প্রতিযোগিতা হতে হবে সঠিক তথ্যের, অপতথ্যের নয়। গুজব ও অপতথ্যের বিষয়ে সমন্বিত উদ্যোগ দরকার।
বক্তারা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মিডিয়া লিটারেসি অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।
