Post Bangla

দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত ইরান

যুদ্ধবিরতির আলোচনা বা সাময়িক উত্তেজনা প্রশমনের মধ্যেও নিজেদের সামরিক প্রস্তুতি শিথিল করেনি ইরান। বরং যেকোনো দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত মোকাবিলায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনী পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।

দেশটির সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামিনিয়া বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের প্রতি আস্থার অভাব থাকায় তেহরান এখনো যুদ্ধ পরিস্থিতিকে শেষ হয়ে গেছে বলে মনে করছে না।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে আকরামিনিয়া বলেন, সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানে ইরানের বিভিন্ন ইউনিট গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জন করেছে। বিশেষ করে বিমান বাহিনীর অভিযানকে তিনি উল্লেখযোগ্য বলে তুলে ধরেন।

তার দাবি, ইরানের যুদ্ধবিমান উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোতে সফল হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে ইরাক, কুয়েত ও কাতারের কয়েকটি মার্কিন ঘাঁটিও ছিল লক্ষ্যবস্তু।

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক অভিযানে ইরানের বিমান বাহিনীর এফ-৫ যুদ্ধবিমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। একাধিক প্রতিরক্ষা স্তর অতিক্রম করে এসব যুদ্ধবিমান নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের বক্তব্য মূলত প্রতিপক্ষের প্রতি কৌশলগত বার্তা হিসেবেও বিবেচিত হয়।

আকরামিনিয়া জানান, দক্ষিণ ইসফাহান অঞ্চলে শত্রুপক্ষের অনুপ্রবেশের চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে ইরানের স্থলবাহিনী। দ্রুত প্রতিরোধ গড়ে তুলে তারা একটি শত্রু বিমান ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। যদিও এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র বলেন, সাম্প্রতিক ১২ দিনের যুদ্ধ এবং দীর্ঘস্থায়ী ৪০ দিনের সংঘাতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সেনাবাহিনী নতুনভাবে নিজেদের প্রস্তুত করেছে। এই অভিজ্ঞতা ভবিষ্যৎ যুদ্ধ পরিকল্পনা ও প্রতিরক্ষা কৌশলকে আরও শক্তিশালী করতে সহায়তা করছে।

তিনি আরও জানান, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী তাদের সামরিক সরঞ্জাম, অস্ত্রভাণ্ডার এবং লক্ষ্যবস্তু তালিকা নিয়মিত হালনাগাদ করছে। এতে সম্ভাব্য যেকোনো সংঘাতের ক্ষেত্রে দ্রুত ও কার্যকর জবাব দেওয়ার সক্ষমতা বাড়ছে।

আকরামিনিয়া বলেন, ইরান যুদ্ধকে শেষ বলে বিবেচনা করছে না, কারণ শত্রুপক্ষের প্রতি আস্থার ঘাটতি রয়েছে। তার ভাষায়, ‘আমরা শত্রুকে বিশ্বাস করি না। তাই যুদ্ধ শেষ হয়েছে—এমন ধারণা আমাদের নেই। আমাদের প্রস্তুতি অব্যাহত রয়েছে।’

তিনি হরমুজ প্রণালীর কৌশলগত গুরুত্বের কথাও উল্লেখ করেন। জানান, প্রণালীর পশ্চিম অংশ বর্তমানে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) নৌবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অন্যদিকে পূর্ব অংশের দায়িত্বে রয়েছে ইরানের নিয়মিত সেনাবাহিনী।

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি রুট। এ কারণে ওই অঞ্চলে ইরানের সামরিক অবস্থান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

আকরামিনিয়া জোর দিয়ে বলেন, প্রতিপক্ষ তাদের পদক্ষেপের জন্য অনুতপ্ত না হওয়া পর্যন্ত ইরানের সশস্ত্র বাহিনী প্রস্তুত থাকবে। তিনি দাবি করেন, ইরানের লক্ষ্য শুধু প্রতিরক্ষা নয়, বরং এমন প্রতিরোধ গড়ে তোলা যাতে ভবিষ্যতে শত্রুপক্ষ আর কোনো আগ্রাসনের সাহস না পায়।

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতার মধ্যে ইরানের এই অবস্থান অঞ্চলটির নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। একই সঙ্গে এটি আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও প্রভাব ফেলতে পারে।

Related posts

হরমুজ প্রণালি আর কখনোই আগের অবস্থায় ফিরবে না: ইরান

bangladmin

ইরানকে সহযোগিতা : ৩৫ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা

bangladmin

ইরান যুদ্ধ বন্ধে এবার চীনের সহায়তা চাইলেন ট্রাম্প

bangladmin

মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরাতে সব কিছু করবে রাশিয়া: পুতিন

bangladmin

মার্কিন প্রতিনিধি দলের পাকিস্তান সফর বাতিল করলেন ট্রাম্প

bangladmin

স্ট্রংরুম ঘিরে উত্তেজনা, পাহারায় মমতা-প্রার্থীরা

bangladmin