26.5 C
Bangladesh
May 16, 2026
Post Bangla

এবার হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন যুদ্ধবিমানের পতন

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ এক ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। গত শুক্রবার ইরানের আকাশসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় একটি যুদ্ধবিমান ‘এ-টেন ওয়ারথগ’ বিধ্বস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। প্রভাবশালী মার্কিন দৈনিক নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালীর কাছে এই শক্তিশালী বিমানটিকে লক্ষ্যবস্তু করে ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এই ঘটনার মাধ্যমে গত ২৪ ঘণ্টায় দুটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হলো, যা পেন্টাগনের জন্য এক বিশাল সামরিক ও কৌশলগত ধাক্কা।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীর কৌশলগত এলাকায় একটি একটি মার্কিন এ-টেন যুদ্ধবিমানকে সফলভাবে আঘাত করা হয়েছে। বিধ্বস্ত বিমানের একমাত্র পাইলটকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে এই উদ্ধার অভিযানও ছিল বিপদসংকুল।


এনবিসি’র তথ্যমতে, পাইলটকে খুঁজতে যাওয়া দুটি মার্কিন হেলিকপ্টারও ইরানি বাহিনীর গুলিবর্ষণের শিকার হয়েছে। যদিও হেলিকপ্টারের ক্রুরা অক্ষত আছেন, তবে এই ঘটনা ইরানের আকাশসীমায় মার্কিন বাহিনীর অসহায়ত্বকেই ফুটিয়ে তুলছে। এর আগে শুক্রবার সকালেই দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানে একটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করে আইআরজিসি। সেই বিমানের ধ্বংসাবশেষের ফুটেজ ইতিমধ্যে ইরানি টিভিতে প্রচার করা হয়েছে এবং নিখোঁজ পাইলটকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য পুরস্কারও ঘোষণা করা হয়েছে।

মার্কিন রণকৌশল ও ইরানের অদম্য শক্তি: ‘এ-টেন ওয়ারথগ’ মূলত স্থল বাহিনীকে সহায়তা দেওয়ার জন্য ডিজাইন করা বিমান। বিশ্লেষকদের ধারণা, হরমুজ প্রণালীর ইরানি দ্বীপগুলো দখলের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্র যে স্থল অভিযানের পরিকল্পনা করছে, তার অংশ হিসেবেই এই বিমানগুলো মোতায়েন করা হয়েছিল। তবে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের সামরিক সক্ষমতা ‘১০০ শতাংশ ধ্বংস’ করার দাবি করলেও বাস্তবতা ভিন্ন। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিএনএনকে জানিয়েছে, যুদ্ধের এক মাস পার হলেও ইরানের অর্ধেক ক্ষেপণাস্ত্র এবং কামিকাজে ড্রোন পুরোপুরি অক্ষত আছে।

যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান: যুদ্ধের ময়দানে এই বিপর্যয়ের মধ্যেই কূটনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে উঠেছে। ইরানের ফারস নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আসা ৪৮ ঘণ্টার একটি যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। গত বুধবার একটি তৃতীয় দেশের মাধ্যমে এই প্রস্তাব দিয়েছিল ওয়াশিংটন। কিন্তু ইরান স্পষ্ট করে দিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের সব ঘাঁটি থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার এবং যুদ্ধের ফলে ধ্বংস হওয়া অবকাঠামোর ক্ষতিপূরণ না দেওয়া পর্যন্ত তারা কোনো আলোচনায় বসবে না।


কূটনৈতিক অচলাবস্থা ও মধ্যস্থতা প্রচেষ্টা: 
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তানে চলমান মধ্যস্থতা প্রচেষ্টাও বর্তমানে থমকে আছে। কাতারও এই মূহুর্তে মধ্যস্থতাকারী হতে অনীহা প্রকাশ করেছে। তবে তুরস্ক ও মিশর এখনো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, বিমান ভূপাতিত হওয়ার ঘটনা আলোচনার ওপর প্রভাব ফেলবে না। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, একের পর এক অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান হারানো এবং ইরানের অনমনীয় অবস্থান ট্রাম্পের ‘সর্বোচ্চ চাপ’ প্রয়োগের নীতিকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।

সব মিলিয়ে, হরমুজ প্রণালী থেকে শুরু করে ইরানের কেন্দ্রস্থল পর্যন্ত এখন এক উত্তাল যুদ্ধক্ষেত্র। একদিকে মার্কিন দম্ভের পতন, অন্যদিকে ইরানের পাল্টা আঘাত, এই দুইয়ে মিলে পুরো অঞ্চল এখন এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ধাবিত হচ্ছে।

Related posts

ইরানে পরমাণু হামলার খবর নাকচ করলো যুক্তরাষ্ট্র

bangladmin

আল্লু অর্জুনের জন্মদিনে বাসভবনে ভিড়, পুলিশের লাঠিচার্জ

bangladmin

জামায়াত দেশকে অস্থিতিশীল করতে রাস্তায় নেমেছে: মির্জা ফখরুল

bangladmin

ইরানে ইসরায়েলের অভিযান এখনও শেষ হয়নি : নেতানিয়াহু

bangladmin

সিঙ্গাপুরের হাসপাতালে মির্জা আব্বাসকে সিসিইউ থেকে কেবিনে স্থানান্তর

bangladmin

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন বৈঠক নিয়ে কোনো তথ্য নেই, জানাল ইরান

bangladmin